তাপস দাস

ঈগল কিংবা নারীর ঠোঁট

 

ঈগল কিংবা নারীর ঠোঁট

এরা কি কিংবদন্তি?

নাকি তুই?

আমাকে বিদ্যাপতি চন্ডিদাস

অথবা লালন ভেবেছিস বহু বার

আমি তার কিচ্ছুটি নিতে পারিনি

কালের খেয়ায় রজকিনি ভেসে গেছে

 

অথচ আমি ছটফটে স্মৃতির

ছাপানো বাগান নিয়ে বসে আছি

বসে আছি তারাফেনী আর শীলাবতীর

প্রান্ত ছুঁয়ে…

তবু নারী কিংবা নদী

তোর হঠাৎ কান্না মনে হয়

জীবন কিংবা মৃত্যু

তোর এক চিলতে হাসি মনে হয়…

মনে হয় দুঃখ, বেদনা, অশ্রু

এক একটি নাম না জানা পাখি …

 

শুনেছি তুই অনেক অনেক দূরে চলে গেছিস

সেখানে অলীক জোৎস্নার ভেতর

রাধার নুপূর হয়ে বেজে উঠিস !

লাখো নীল জোনাকি

তোকে আলো করে রাখে

সুখের নাগর দোলায়

বিদ্রুপের হাসি মেশে না

সেখানে সকালের কলরব, দুপুরের মগ্নতা

কিংবা সন্ধ্যা বেলার বিষাদ

তোকে ছুঁয়ে যায় না…

 

দূরের আকাশ জুড়ে ঋতু আসে

ঋতু চলে যায়…

 

এপারে আমি ঈগল অথবা নারীর ঠোঁট

নিজেকে ঘেন্না করি…

নিজের গায়ে থু থু দেই

নিজেকে আঁচড়ে কাচড়ে যন্ত্রণা বাড়াই

মন মন্ননতর পেরিয়ে

যন্ত্রনা ছুঁয়ে বেঁচে থাকে…

 

তবু এখনো অন্ধকারকে আলিঙ্গন

দাবানল কে ফুঁ দিয়ে নেভাতে পারি !

এখনও নৈঃশব্দ্য হাওয়ায় কার্নিশ ছুঁয়ে

বিভোরতায় মগ্ন হয়…

এখনও শ্রাবণ বৃষ্টি পাগল

বাউলের মতো নেমে আসে বিছানায়

এখনও এ বাগানে বৃষ্টি পড়ে !

একটি ভেজা কাক সমস্ত দুপুর কা…কা…

এখনও বিকাল ভাদুরে মেঘের মতো

মুখ ভার করে বসে থাকে…

 

তুই অনেক অনেক দূরে চলে যা

শুধু যাওয়ার উত্তাল ঢেউ গুলো আমৃত্যু আমার !

বহু কাল ছুঁয়ে দেখিনি যে ক্যানভাস

রংহীন তুলির সেই অভিমানটুকু আমার

 

আজ অচেনা উপকূলের দিকে

খুলে দিই এই বিরহ

বৃষ্টি মুখর একটি উপকূল

অনিঃশেষ এই বৃষ্টি পতনের শিহরণ

কেন্দ্র যার ঈগল কিংবা ঠোঁটের ইশারা !