রমেন আচার্য

তোমরা থাকো 

 

যতদিন বৃক্ষ লতা পাতা আছে, ততদিন

মৃত্যু নেই কবিতার।

 

‘এ বড় অদ্ভুত কথা’ বলে বাঁকা হাসি নিয়ে

কংক্রিটের ধাবমান সিঁড়ি

আরও একধাপ ঊর্ধ্বে উঠে গেল।

এতো ব্যস্ত হয়ে ওরা কোথায় চলেছে?

ওরা কি সূর্যের রক্তিম ওষ্ঠ চুম্বন করতে চাইছে? নাকি

সূর্যচিতার আলিঙ্গনের জন্য তৃষ্ণার্ত?

 

না-ঘুমিয়ে যদি ঘাপ্‌টি মেরে থাকি

তাহলে জানালা দিয়ে মাধবীলতার বাহুবন্ধনে তৃপ্ত

ডাকাবুকো বৃক্ষের আত্মসমর্পণ দৃশ্য দেখা যায়।

যতদিন পৃথিবীতে এরকম মিলনকালের

তৃপ্ত শ্বাস-প্রশ্বাস বাতাসে মিশে স্নিগ্ধতা দেবে

ততদিন বোমা ও বন্দুক পদে পদে পরাজিত হতে থাকবে –

তা জানি।

 

ঊর্ধ্বগামী ধাতব সিঁড়ি হঠাৎ পেছন ফিরে তাকিয়ে

পদতলে ঘাসের উল্লাস দেখে একবার অন্তত ভাববে –

কে বেশী সুন্দরী, সূর্যের লেলিহান উল্লাস, নাকি

শিশির চুম্বনে তৃপ্ত ঘাসের অহঙ্কার?

 

যখন লিখতে বসে শব্দের পরিবর্তে উঠে আসে

শুধুই শব্দের কঙ্কাল, তখন আমি

যুক্তি-তর্ক, সম্ভব-অসম্ভবকে সরিয়ে রেখে

মাধবীলতার শরীরে হাত রাখি। বলি –

পৃথিবী থেকে সহসা বিদায় নিও না তোমরা।