শাশ্বতী সান্যাল

বোধন

 

 

 

পঞ্চমীর দিন একটা ফোন এল। সভয় চিৎকারে

রিসিভার আছড়ে ফেলে উঠে গেল মা

পুরোনো গঙ্গার ঘাট, কী ভীষণ, মায়ের দুচোখে…

পেছল সিঁড়ির ধাপ, আছড়ে ভাঙা জোয়ারের জলে

প্রতিমার খড়কুটো, প্রতিবেশী বান্ধবীর মুখ…

 

পঞ্চমীর দিন ঠিক কাকভোরে জোয়ার আসার

অসতর্ক আগে তাকে দেখা গেছে ঘাটের পৈঠায়

বিপজ্জনক একা। তারপর… অসীম শূন্যতা

 

জল জানে, যখন সে ফিরে এল

সেই মুখ গর্জন-তেলের

অধিক উজ্জ্বল, শান্ত। মৃতের অমন

দিব্যভাব দেখে বড় মনস্তাপ হয়…

 

ঘুমের ভিতরে যেন মুছে গেছে ব্যথা, দাগ

দীর্ঘ কালশিটে

 

মায়ের আঁচল ধরে নাবালিকা আমি সে প্রথম

গঙ্গাতীরে বোধন দেখেছি

 

পায়ের পাতায় তার রক্তরঙ

পদ্মপাতা জড়িয়ে রয়েছে…

 

এবছরও বান আসবে। দেবী আসবে বহু সমাদরে।

 

প্রতিমার মুখ দেখলে জানিনা মা’র কি আজও

প্রতিমা-মাসীকে মনে পড়ে