সুধীর দত্ত

আদি পুরাণের গল্প

 

নক্ষত্রের মৃত্যু আর আমাদের জন্মকথা

লেখা হবে বলে

আমি তো শূন্যের দিকে সাদা খাতা বাড়িয়ে রেখেছি।

সম্ভাব্যতার কোন সূত্র ছিল? লিখো,

হাজার এক ভাবে যার প্রথম পৃষ্ঠাটি

শুরু হতে পারত, লিখো

সেই আদি পুরাণের গল্প,

যেমন বুকের দুধ, গর্ভ-কাঠামো,

রামের জন্মেরও আগে যে রকম রামায়ণী

গান আর লব-কুশ, আমরা কুশীলব, তুমি কবি,

আমার অবশ হাত তোমার হাতেই রাখা আছে।

বুক-সমান উঁচু ওই যে ঘাসের জঙ্গল, দ্যাখো

কী রকম নড়ে উঠল, একপাল হরিণ

পিঠের উপর শিং পেতে।

দৌড়চ্ছে ক্ষিপ্র, আগুন-রঙের মহাকায়

ও কি বাঘ? ডার্বি পাহাড়ে

নেমে যাচ্ছে ঢাল বেয়ে টকটকে একটি সুগোল।

যে যেমন দ্যাখে সেইভাবে

যে যেমন পায় সেইভাবে

শত বর্ষ আয়ু নিয়ে বেঁচে থাকে এক একটি চা-গাছ।

আমি তো শূন্যের দিকে বাড়িয়ে ধরেছি সাদা পাতা।

আমার অবশ হাত তোমার হাতেই ধরা আছে।

ইতস্তত শেড ট্রী, সিট্রোনেলা, বাবলা বন

আমাদের যাপনের ভিতর কোথাও

শিকড় চারিয়ে জেগে আছে।

একেই কি যৌনতার অতিরেক বলো ?

আশঙ্কাও কর সৌরঝড় ?

এ ও তবে একদিন শেষ হবে মা!

আমার নক্ষত্রজন্ম, ছায়াপথ, অ্যান্ড্রোমিডা

গ্যালাক্সির ভিতর প্রাণের

ক্রম-সঙ্কোচোন হবে? বিস্তারের সম্ভাবনাগুলি?

আমিও তৎপর —

গুটাচ্ছি বিস্তীর্ণ মায়া, স্নেহ-আর্দ্র জল।

ফিরে যেতে হবে? তুমি পাঠাচ্ছ সঙ্কেত?

তবু জানি হাড়ে ও মজ্জায় স্মৃতি, সমবেত

নির্জ্ঞানের উত্তরাধিকার।

 

সামনে উমগড় নদী, চিতা ও বাইসন

নামেরি-জঙ্গল ভেঙে ছুটে আসছে এ দিকেই, দ্রুত।