স্বর্ভানু সান্যাল

বধ্যভূম

 

হরিণের বধ্যভূমে নিষাদের বেশে ফিরি একা

মাথায় শিরস্ত্রাণ শকুনের পালক দিয়ে গাঁথা

পিঠেতে তুণীর, তাতে তীর নয় সর্পলতা রাখা

অঙ্গ আভরণ থাকে নীরন্ধ্র অন্ধকার শুধু

 

পক্ষীশাবকের শব কাপাস তুলোর মত পড়ে

অজস্র অগুনতি আমারই পথের ধারে ধারে

মৃত্যুনদ বয়ে চলে পোয়াতি গাভীর মত ধীরে

সময় সে ম্রিয়মাণ অজস্র অসময় ভীড়ে

 

আমার চোখেতে জ্বলে উদগ্র কামনার বাতি

আগুনের মত তার লকলকে লেলিহান শিখা

অধরপ্রান্তে থাকে বঙ্কিম হীন ক্রুর হাসি

সুতীক্ষ্ণ ফলা হাতে আমি এক মৃত্যু কারবারি

গাছেদের কঙ্কাল ফোকলা বুড়ির মত সাদা

নিষ্ঠুর বিবর্ণ যত, অজীর্ণ অলীক বাতুলতা

 

অরণ্যসঙ্কুল পথে একটা নদীর রেখা শুধু

জেগে থাকে মধ্যযামে ক্ষয়িষ্ণু চাঁদের মত একা

শম্বুক শম্পানে যায় পুরাতন স্মৃতি, ব্যাথা, ক্ষত –

গত জন্মের ভুল সান্দ্র অশ্রু ডোরে বাঁধা

ছায়াব্যাপারীরা সব আসে আর মৃত্যুদরে কেনে

আকণ্ঠ পান করে দেহ পায় রক্তনীল শিরা

 

“স্মৃতি গোছা কত করে” আমিও প্রশ্ন করি..আর

হেমন্তের হাহাকার বলে যায়, “এ নয় তোমার

মৃত্যুরই  আছে শুধু স্মৃতি অধিকার…”