ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত

মোহনা

 

গাড়িতে বসে আছে মোহনা, ঠিক করেছে আর নামবে না;

এই চাবাগান, পাশে ঝিলমিল  নদী তাও দেখবে না;

মূলত ঘুমোতে চাইছে মোহনা, রাতজাগা পরীক্ষারা পরপর,

তারপর ভোরের ফ্লাইট; বাগডোগরা থেকে এতোটা পথ,

ঘুমোতে চাইলে কেউ মোহনাকে বাধা দিও না।

 

 

মোহনা ঘুমিয়ে থাকে, স্বপ্নে আরবের বাজপাখি ওড়ে;

মন্ত্রপূত পাণ্ডুলিপি জড়িয়েছে গায়ে, বৃষ্টির ওম;

অনাহারে শ্রমিকের মৃত্যু দেখেছে বাগান,

সময়মতো আসেনি সহায়তা,

সামান্য ভাতসবজী শিশুর পাতে একটুকরো ডিম,

মেয়েরা কোথায় গেছে ঘরদোর ফেলে,

বহুদিন মেলেনি খবর।

 

 

এই সব ঘরবাড়ি নাকি? অবাক হয়েছিলেন মন্ত্রীমশাই,

গরুর খাটাল যেন, উড়ে গেছে খড় টর, মেঝে বলে কিছু

নেই শুধু ঘাসমাটি; এসব দেখলে মোহনা তুমি কেঁদে

উঠবে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে, এভাবে ঘুরছে ক্যানো, এরা সব

মানুষ নাকি? পোষাক বলে কিছু নেই, শরীরে জড়িয়ে

রেখেছে ন্যাতাকানি, এদের উদ্দেশ্য করে ধূমায়িত

বিপ্লব থেমে গেছে মহানন্দার ওপারে।

 

 

মোহনা ঘুমিয়ে থাকে, বোতলে ফুঁসতে থাকে উন্মত্ত

দানব, একবার হুকুম দিন প্রভু, উড়িয়ে পুড়িয়ে ছত্রাখান

করে দেব, দারিদ্র অনাহার আর পোষাকের অভাব!

 

 

কে দেবে এইসব? নিজেদের ভেতরে ভেতরে কি

আমরা স্বপ্ন দেখেছি কোনদিন?

ভাবতে পেরেছি শোষণহীন সমাজ!

আধোঘুমে মোহনা গুটিসুটি গাড়ির ভেতরে।