সুমন মল্লিক

অক্টোবর 

 

 

ব্যথার রং আর আদরের তুলিতে আঁকা হচ্ছে অক্টোবরের দিন ও রাত ৷

ঘরময় মায়ার কাশফুল জাগিয়ে দিয়েছে সমুদ্রের নীচে

লুকিয়ে থাকা আশ্চর্য একটি মুক্তোঝিনুক – স্মৃতির ভেতরে

দোদুল্যমান মানসপ্রতিমা ৷ ঈষৎ কুয়াশামাখা চাঁদে

ফিরে পাচ্ছি ঈষদুষ্ণ তোলপাড় ৷ হাতের তালুতে কার্শিয়াঙের মেঘ

যে বেশুমার তৈলচিত্র এঁকে দিলো তার রংরূপ থেকে পুনরায়

একটা ককটেল দাঙ্গা শুরু হতেই পারে মাথার ভেতর কিংবা

বুকের গভীরে একটা রেশমি ছুরি ঢুকে গিয়ে কবিকে

করে দিতে পারে কাফের ৷ ক্রমশ নিচু হয়ে আসছে আকাশ ৷

ঊনপঞ্চাশতম ব্যর্থতার পেটে লাথি মেরে এইমাত্র শেষ করলাম

পঞ্চম পানপাত্র ৷ মনের কবুতর উড়তে ভোলেনি ৷

কিন্তু ঘরবন্দি থাকলে যা হয় ৷ জং-এর ভেতর পুষে রাখা

বিলাপে প্রেমের পশমিনা হয়ে যায় তঞ্চপ্রপাত ৷

বাইপাস ভেঙেচুরে গেছে ৷ পার হয়ে বৈকুণ্ঠপুরের দিকে আজও যাই ৷

অরণ্যের নিরালায় নিজের গোপন নীরবতা ঢেলে দিয়ে

সাহুর জলে ধুয়ে নিই হাতমুখ ৷ চারদিকে কাশফুলের জাজিম ৷

টিয়ার দল উড়ে যায় পশ্চিম থেকে পুবে ৷ পাহাড়ের মাথায়

বসেন লালন ফকির… হাওয়ায় ভেসে আসে তার গানের সুর ৷

আমি অপরূপ তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হই ৷ ঘরে ফিরে ছাদে চলে যাই ৷

এখন অক্টোবর চলছে ৷ এসময় চাঁদের স্নান দেখা যায়

কুয়াশার সরোবরে ৷ স্নান দেখে দেখে প্রেম ফিরে আসে

ভয়াবহ গতিতে ৷ তোমারও কি ফিরে আসে অভীপ্সিত দ্রাবে ?

এই দ্যাখো, আমার শরীরময় অক্টোবরের অমোঘ দ্রাক্ষারস ৷

শোন, সেনোরিটা নয়, বরং একদিন কলঙ্কিনী রাধা হয়ে এসো আমার ছাদঘরে ৷