পার্থসারথি দে

হে অজ্ঞাত সিন্ধুনদ, আমার প্রিয়ভাষ

 

হে অজানিত, অজ্ঞাত সিন্ধুনদ

তোমার পিছনে চিরসখা হয়ে যে হাট বসে আছে

তাকে কতটা জানো তুমি। হে কষ্ট বৃত্তান্তের খবর নেওয়া

চিরব্যথাবৃত অপারগ, পাখিজন্মের রূপাবৃত কষ্টমনের

সংবাদ-কথা তোমার হৃদয়াবৃত আছে?

 

আহা! অজ্ঞাত নদের জল বহে যাওয়া, পাখির হৃদয়ের কর্মক্রিয়া,

বুকে ব্যথার চিরবন্দি করে দেওয়া পাখিসমস্যার কষ্ট বুঝতে না পেরে

হয়তো রহস্যবিদুরদের কথা মনে আসে।

কিন্তু এই বিপণ্ন বিধুরতার কথা

এই অজ্ঞাত, আমার জানা হয়নি।

 

হে সিন্ধুনদ, আমি শুধু তোমাকে জেনেছি

আর জেনেছি তোমার চিরকষ্টের জল

বুকের মধ্যে নিয়ে তার সঙ্গীর হয়ে হাট দেখা…

 

দুই

 

একা একা পুড়ে যাওয়া, বন্ধুত্বহীন হৃদয়ের মাঝে

হে আমার দূরের মন, শুধু হৃদয়ের তাপ

আমার উষ্ণতার উত্তাপ

পুড়ে যাওয়া উষ্ণতায় নিরুত্তাপ বন্ধুত্বের ছাই

আর আমি

নিঃসঙ্গ বন্ধুত্বের হিসাবে অস্পষ্ট অক্ষরে

কবিতার খাতা নিয়ে বসে থাকি।

হে আমার আশ্চর্যের কবিতা

এসো, আমার সকল কবিতা নিয়ে এসো

নিঃসঙ্গরূপ কষ্টের নিদর্শন হয়ে থাকি…

 

তিন

 

হে প্রিয়ভাষ, অনেক অনিঃশেষ অজ্ঞাত প্রার্থনায়

তুমি জারিত

তোমার প্রতিটি ভাবনা আর শীতল প্লাবন আমাকে

বিপ্লবীর মৃদুভাষে কোরকজারিত করে

আমি হৃদয়ের প্রতিটি তন্তুতে প্লাবিত হই,

হে প্রিয়ভাষ, আমাকে অনিঃশেষ ভাবনায় তুমি

জারিত করো, আমিও প্রিয়ভাষ হই, অনিঃশেষ যন্ত্রণায়

আমিও সুসন্তানদের হৃদয় মানবিক করি।

 

হে অনন্তভাষ, অনেক অপ্রাচুর্য ঐশ্বর্য

এক বিশেষ সমাগত উৎসবে

আপনি আপনার অনন্ত বিষয়ে, মদ-মাৎসর্য্যে উদ্ভূত করেছেন।

আমরা প্লাবিত। আমাদের প্রিয়ভাষ

আপনি, হে সত্যনারায়ণ গ্রহণ করুন।