সীমান্ত

ইছামতী

 

ইছামতী বোধহয় তৃষ্ণার মেঘে মোড়া। মাঘের কুয়াশা-ভাঙা জ্যোৎস্না। ঋতুতে নদী স্রোতস্বিনী। প্লাবন শেষে নদী আবারও  জলশূন্য। অস্তিত্ব খুঁজতে ইছামতীর কক্ষপথে ঢুকে ডুবেছি কৃষ্ণগহ্বরে। ভয়ংকর বেগে নদী আঁছড়ে পড়েছে আত্মার বধ্যভূমিতে। লৌকিক-পলি সরিয়ে ইছামতী চিৎকার করে বলেছিল — এসো জীবনের জলস্তম্ভ গড়ি। বলেছিল, এসো ঈশ্বরীয় দেহে নীল আকাশ ভেঙে গ্রহাণু-বুকে পদচিহ্ন এঁকে দিই। স্বচ্ছ  জলের অতলে শামুকের দল খোদাই করেছিল, সন্তুষ্টির পবিত্র ভাস্কর। অনাদিকালের স্রোতে ছিল জন্মান্তর পেরিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। ঐশ্বরিক ভাগ্যলিখনে জোয়ারভাটায় নদীতে জমেছে পলি। প্লাবন-শেষে জলশূন্য ইছামতীর গভীরে এখন উঁকি দিচ্ছে মরা চাঁদ। বকের ডানায় উড়ছে ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। মাছরাঙা বিষাদের চিঠি পৌঁছে দিচ্ছে মোহনায় ভেঙে পড়া জলস্তম্ভের কাছে। নৈশস্রোত বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে শূন্যতা। নদীর অভিকর্ষের টানে সাঁতরে যাচ্ছি অববাহিকা। জানি,  সীমান্তে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে ইছামতী। নদী বোধহয় তৃষ্ণায় কাঁদছে সম্পূর্ণ একা!