বাবলু রায়

 

একদিন এসো প্লাবন

 

তুমি যতই ডাকুক প্লাবন মহাশূন্যতার এই আদিম কুঞ্জ থেকে

আর কি ফিরে আসা যায়?

দিগন্তের এই গভীরতা বিস্মৃত মাঠ টুকরো টুকরো ভালবাসা

রোদ বৃষ্টি ঝড় এসব নিয়ে বেশ আছি

গুল্মলতার মতো ভিতরে-বাইরে জলঢাকা নদীর তীরে

এইতো আমার একজীবনের থাকবার ঘর

নিষ্পাপ ঘাসের মতো জেগে থাকা চতুর্দিক ঘেরা ত্রিভূজ

রেখার ভিতর জন্ম-মৃত্যুর খেলাঘরে একটাই আশ্রয় আমার

দিনরাত্রির একাকার হয়ে ছড়িয়ে থাকা

অজস্র নক্ষত্রের সফেদ বিছানায়

 

আজ মনে পড়ে অনেক কথা অনেক না-জানা গান

তবুও পিছন ফিরে আর যেতে পারি না প্লাবন

বিভীষণ অস্থিরতায় নীল স্বপ্নের ঘোড়াগুলি শেষ বিকেলের

মেঘ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়, একদিকে ঝমঝম বৃষ্টি

শালবনের পাতায় চিৎকার

মাঝখানে সরু একটা পথ ধুলোকাদায় সমান্তরাল স্বচ্ছ সুতোর মতো

একটা রেখা উত্তর দিকে  এসে থেমে গেছে

ডান দিকে ইট-কাঠ-বালি-পাথরের স্তূপ টুকরো টুকরো পোড়া হাড়

তারপর মঙ্গলচন্ডীর ঘাট মধ্যজলে ভেসে যাচ্ছে বিবর্ণ নৌকো

তার পাটাতনে একটা হলুদ রঙের পাখি

একলাই ডাকছে

আর মেঘের দল নেমে আসছে নীচে

পাখিটার কোনো নাম নেই

কিন্তু সবাই তাকে বন্ধু বলেই জানে।