রণদেব দাশগুপ্ত

বকেয়া

 

একটা টাপুর টুপুর বিকাল প্রাপ্য ছিল আমাদের

যেমন প্রাপ্য ছিল একটা রাধাচূড়ার রোদনির্জন সকাল

পায়ে হইচই বেঁধে যখন ঘুরতে গেছিলাম অগণ্য

ঝাউবীথি আর উচ্ছল গোলাপি আকাশ—

তখনো জানতাম না ,

সমস্ত প্রাচীন গুহায় চিত্রাবলী থাকে না ।

 

দৌড়তে দৌড়তে আমরা ঠেলাগাড়ির আইসক্রিম ,

দৌড়তে দৌড়তে আমরা ওভারব্রিজ ,

দৌড়তে দৌড়তে আমরা লালুভুলুও বটে ।

অজস্র কোয়ার্টার্লি , হাফইয়ার্লি , এনুয়্যাল,

টেস্ট,ফাইনাল ঝরে গেল আঙুলের ফাঁকে—

দুহাতে পোস্টারের আঠা ,

ভাঙা গলার অনিবার্য মিছিল ,  আর

নেতার মুখ চিনতে চিনতে ক্রমাগত ঝুঁকে পড়েছি

নিজের পুরোনো পায়ের দিকে ।

 

তবু জানি— প্রার্থনায় নয় , স্বপ্নে নয় ,

হুজুগে বা হেডলাইনে নয়

কোথাও কিছু প্রাপ্য রয়ে গেছে ।

সোনালি ধানের দিন শেষ হলে

এলোমেলো মাটির ঢেলায় ,

বন্যা সরে গেলে ভাঙা জলজ ভিটেতে

এখনো অবুঝ চোখ চেয়ে আছে তোমাদের দিকে ।

 

মোবাইল নাম্বারের ফাঁকে ফাঁকে ,

ট্রেনের ভিড়ের খাঁজে , ক্ষয়ে যাওয়া চাঁদের কাস্তেয় ,

সিজ ওয়ার্কের সব নোটিসে নোটিসে

আমাদের প্রাপ্য লেখা আছে ।

দুধবরণ রাজকন্যা , মেঘবরণ কেশ ,

রিভলভিং চেয়ার বা নরম কার্পেটে নয় – এইখানে ,

এই যত তিক্ত মুখে মুখে

আমাদের বকেয়ার সমস্ত সূর্য চেয়ে আছে একাকার ।