কুমারেশ তেওয়ারী

মধু ছুতোরের বাড়ি

যেদিন বিকেলে খুব মেঘ জমে থাকে

একাকি চাতক বৃষ্টির আশায় মেঘমুখী

যেদিন বিকেলে 

মনখারাপের হাতে থাকে চৌরাশিয়া বাঁশি,

গুটি গুটি পায়ে চলে যায় মধু ছুতোরের বাড়ি

মধুদাদা কাঠের শরীর কুঁদে পুতুল বানায়

পুতুলের সঙ্গে তার নিরন্তর সংলাপ চলে

পুরোনো টায়ারে বাঁধা মোড়া, বসতে বসতে বলি,

দাদা তুমি পুতুল বানাও, আমি বসে বসে দেখি

বাটালি চালিয়ে কাঠের ভেতর থেকে

বের করে আনে পুতুল শরীর

জন্ম দেয় বাঁকের গভীর, ঠাঠের ভেতরে

রুদ্ররাগ আর কড়ি ও কোমল

টপটপ ঝরে পড়ে রস, মধু সমাচার

আড়বাঁশি মুখে কোনো পুতুল মুহূর্তে কৃষ্ণ হয়ে ওঠে

সরলবর্গীয়  বনে অভিসার আঁকে অপেক্ষার

মাথায় সাজিয়ে দধিভাণ্ড সারি সারি

গর্বিত রাধিকা যায় হাটে, বাঁশি হাতে পিছনে কানাই

এই দৃশ্যে হয়তো কোথাও যমুনার ঘাটে 

পদাবলী নৌকাখণ্ড কেঁপে কেঁপে ওঠে

অনাসক্ত আয়ানের চোখ থেকে পড়ে যায়

বাইফোকালের গ্লাস

মধুদার বউ এসে রেখে যায় বাতাসা ও জল 

আড়চোখে দেখি তার মুখ, দেখি রাই মুখ

থরে থরে চরম সাজানো পরকীয়া