সৌমাল্য গড়াই 

পাখি

 

অনিশ্চিত সূর্যোদয়ের দেশে জন্ম নিয়েছে,

দ্বিধাবিভক্ত কোনও সূর্যাস্তের কাছে নীচু হয়ে বসবে বলে।

জানি না এ কোন মহাকাল পাঠিয়েছে

অন্নহীন, বস্ত্রহীন বাস্তুহীন পৃথিবীর কাছেকোনও দায় নেই কোথাও

অনন্ত সমুদ্রের কাছে মৃত ঢেউ যেমন ভাসিয়ে রাখে দাবিহীন খড়কুটো। 

 

আশ্রয়-শিবিরে এত তাড়াতাড়ি সন্ধে নামে কেন?

অথচ চলে যাবে বলে তো কেউ আসে না…

পারাপার কোলাহল দ্বিগুণ হয়ে আসে পায়ে- পায়ে,

সীমানা ভাঙে,সীমাহীন আকাশের ছায়াপুঞ্জে।

 

মৃত্যুজন্ম বুকে নিয়ে পা রাখে

ওরা জানে এ ক্ষুদ্র মুমূর্ষুতা জীবন নয়

করুণার আলিঙ্গনে ভিক্ষের খুঁদকুড়ো বমনযোগ্য… 

 

সময়ের কাছে সকলেই শরণার্থী,

একথা ভুলেছে বেজন্মা রাষ্ট্র। 

দূরের যে দেশ ভেদাভেদশূন্য, ‘ডাকছে’… 

বুকের ভিতরে বাসা বাঁধে শরণার্থী পাখি,

উড়ন্ত ডানায় লেগে থাকে ভোর

শোষিত আঁধারে ওরা কি বিপ্লবের গান হতে আসে?