শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়

দুর্ঘটনা

 

গভীর কুয়াশা ছিল থমথমে বাইপাশ জুড়ে

রাত সোয়া একটায়

টার্নিংয়ের কাছে এসে বাইককে হাইস্পিডে ঘুরিয়েছি যেই

দোতলা লরির মুখোমুখি..আলো..তীব্র কলিশন

বিকট আওয়াজে চুরমার হয়ে মুখ থুবড়ে পড়লাম রাস্তায়

হেলমেট না-পরা মাথা ফেটে

রক্তমাখা ঘিলু ছিটকে পড়লো চারপাশে

মাথা থেকে বের হয়ে এলো প্রিয় বই ঘেরা ছোট্ট লাইব্রেরি

অচেনা পাখির শিস্, মাউথঅর্গান

নর্থ ক্যালকাটা..স্মৃতি..রোদে ছাওয়া স্নিগ্ধ ছেলেবেলা

পুরনো ক্যাসেট কিছু রাগসংগীতের

অসমাপ্ত কবিতার অক্ষরেরা, ডেঁয়ো পিপড়ের মতো

সারি সারি হেঁটে চলে গেলো, আর ফিরে তাকালো না…

আমি চোখ তুললাম, কী আশ্চর্য ভিশন এখনও ঠিক আছে

কবিদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায় না কখনও

হৃৎপিণ্ড ফেটে গিয়ে পড়ে আছে, অবশেষে আজ

জীবনে প্রথমবার তার সঙ্গে দেখা হল, লাবডুব শব্দ শেষ হতে

থ্যাঁতলানো ফুসফুস বৃক্ক প্লীহা যকৃৎকে ঘেঁটে ঘেঁটে দেখি

কোথায়, কোথায় আমি ? নেই নেই কোনওখানে

চাকা চাকা মাংস শুধু পড়ে আছে, অথচ তখনও

আমার তর্জনী আর বুড়োটে আঙুল

খসখস শব্দ করে লিখে রাখছে রক্তে ভেসে গিয়ে

যা আমার অন্তিম কবিতা