তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়

বন্দিশ

 

 

গোপন প্রযত্নে আছি। আছি এক ছায়াকণিকায়।

বিভিন্ন আলোয় নত, জলের অভ্যাসে চিরদিন…

জেনেছি তীর্যক ভাষা, বেদনার কাছে বসে থেকে,

সমস্ত শব্দের কাছে আমার রয়েছে কিছু ঋণ।

২.

নিজেকে রেখেছি যেন গোপনের কোন শবদেহ।

আর এই শমিবৃক্ষ, আর এই শ্মশানপুটুলি…

সবাই এড়িয়ে গেলে ভেঙে পড়া একান্তে নিজের

সমস্ত মৃত্যু ও রক্ত অস্ত্রের সম্মুখে বসে খুলি।

৩.

অদূর বাড়িটি চেনো? জানো, ওর ভিতরে-ভিতরে

রয়েছে কীসের স্মৃতি? … ভুলে যেতে কীভাবে বা পারি ?

নানান গোপন খুলে সে দাঁড়ায় প্রত্যেক স্মৃতিতে

বলে, এসো, দ্বার খোলা… ডেকেছে তোমার জ্যোৎস্নাবাড়ি…

 

৪.

বিভিন্ন ব্যথার কাছে মুহূর্ত সাজিয়ে বসে থাকি।

হে মুগ্ধরাগিনীশব্দ! অপেক্ষাই আমার কাহিনি।

মুখর কান্নার নীচে যত শব্দ, যত লেখালেখি…

সে ক্ষত আজন্ম জ্বলে, তাকে কেন নেভাতে পারিনি!

৫.

তোমার কারণে আছি। এই অস্তি দ্বিধাভারানত।

তোমার ছায়ায় আজ যেরকম অতিথিসাধন,

আমার সামান্য নিয়ে ও পুরুষ! তোমার যে আলো —

তার এই নিম্ববৃক্ষ। তার এই নম্রবৃন্দাবন…

৬.

উঠেছি প্রত্যুষ দেখে, উঠেছি এ জলস্তন্যঘ্রাণে,

কেবল এ কুশাসন, ছড়ানো মৃত্যুর নিরুপায়

ডাকে সব বাঁধ ভেঙে। হে আচার্য, আমি পরাহত…

আর এই শস্যরোদ — দেখুন, কেমন ভেসে যায়…

৭.

আমাকে নির্দেশ দিন। আমি এই ধান্যপিপাসাকে

দেখেছি নিমেষমুক্ত। পিপাসার অপেক্ষাআলোক।

আমাকে বিশ্বাস দিন, হে আচার্য, আমি অন্ধপ্রায়।

 

— জলস্রোত থেমে গেছে। উঠে এস, প্রিয় উদ্দালক।