জয়দেব বাউরী

 

উপেক্ষাগুচ্ছ

 

 

আকুল দেহাতি সন্ধ্যা, তার উৎস, ক্ষীণতর স্রোত

দুহাতে কুড়োবে বলে আজ যদি খুঁজে খুঁজে মরো,

যদি স্মৃতিলালা ধরে পড়িমরি পথ, মুছে যাবে,

মুছে মুছে যাবে চোখ । কেননা, সমস্ত চিহ্ন, তুচ্ছ

 

তুচ্ছতার জন্মরেখা মিশে গেছে মাটিতে আকাশে

নিশ্চিহ্ন জ্বরের ঘোর আজ তবে কাকে ভালোবাসে!

 

না,আমার অর্থ নেই। ধোঁয়াশা টিলার শীর্ষে,তার

খাঁজে ভাঁজে ঘুরে মরা এক নিঃস্ব প্রজাতির মেঘ।

অরণ্যে রোদন লেগে যার, শিলা আর বজ্রগুলি

আমন মাটিতে গেঁথে ফেরেনি এখনো । মৃত আলো

 

জমে গিয়ে দিকশূন্যে এঁকে বেঁকে কোথায় হারানো।

তুমি যদি পাঠ করে পুনর্বার ফিরে আসো ; থামো –

তবে এই মুষ্টি ভিক্ষা, তবে এই মনযোগ থেকে

অনন্য একটি শ্রী  ফুটে উঠে নিমেষে মিলাবে ।

 

এই যে আদিম বৃক্ষে এতকাল মুখ গুঁজে আছি।

তার ধ্বনি কতদূর ছড়িয়েছে দেহাত শরীরে

অস্থির সবুজ কই, ভাবে অঙ্গ জ্বরজ্বর নীল ।

তাই এত শীতকাল, গোটানো ভ্রমণ, খামে ঘুম!

 

লতা গুল্মে ঢেকে যাই সেই মধু মর্মরের খোঁজে

আলোর নিষেধ নেই। আসতে পারে, নিজের গরজে।

 

যে লেখার জন্য এই পথ চেয়ে পথে পথে হাঁটা

উদাসীন রাত্রিতল, নিঃস্ব দুই হাত পেতে চোখ

অন্ধকারে নেমে গিয়ে কত দূর কত দূর একা।

দেহভিটে ক্ষয়ে আসে, লেখার বদলে মাটি, উই…

 

অন্তরীক্ষ, পাতালে যে দৃশ্যাতীত  অণু অণু অণু

উচ্ছন্ন খিদেই তাকে দৃশ্যমান, করে দিতে পারে !

মাটির আকাঙ্ক্ষা  ধ্বনি তলানির স্পর্শে  গিয়ে ধীরে

এসব শোনালো যেই, খিদেটির পূর্বদিক লাল!

 

এসো খিদে এসো খিদে নিখোঁজের দিকে চলো শিরা

লেখা তবে তথাগত, তপোবন, নীলাচলে গোরা!