সৌমাল্য গড়াই

জন্মান্তর

 

 

নক্ষত্রের দিকে তাকালে মনে হয়  অন্ধকার সমুদ্রে আটকে থাকা বাতিঘর —পূর্বজন্মের আলো নিয়ে বসে আছে আকাশের সন্ধ্যাগৃহে। ওইখানে বিদেহীরা হ্যারিকেনের আলোয় বিষণ্ণ হলুদ পৃথিবীকে দ্যাখে, নিয়নের নীল আলোয় কেমন নিথর

 

পোকামাকড় আর আধখাওয়া খেজুরের মাঝখানে

মৃত মাতামহকে দেখতে পাই। বসে-বসে বাল্যকাল গণনা করে। ছড়া কাটে, জিন-পরীর গুজব ছড়ায়

হাওয়ার খোলস থেকে খুলে ফেলে দেহসর্প, বাস্তচোখ

 

কোনও কোনও গাছে, নুইয়ে পড়া ডালে, হেলে পড়া চাঁদের মধ্যে মৃত মানুষের জ্যান্ত রূপ জেগে থাকে। কথা বলে। যেমন রূপকথা হয়- নক্সী কাঁথা, ভাঙা প্রদীপ, আলাদিন ও তাঁর অনুগত জিন নিয়ে ঈদের দিন মা সিমোই রাঁধে, মনসার পূজায় মানত করে

সহস্রবার ডুবে যাওয়া সপ্তডিঙা নিয়ে বাবা বাণিজ্যে বেরোয়। ফাটা পা, ছুরি বসানো রোদ, ঘামের যোগ্যতা দিয়ে মাটিকে বর্ষামঙ্গল করে তোলে।

 

ঋতু মেনে মনসা কাঁটায় ফুল আসে। দিদির গর্ভফুল কাঁপিয়ে চলে যায় মৃত শিশুর হাসি, ট্রেনের হুইসেল….

 

আলোর প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে মানুষ অন্ধকারের  দিকে পাশ ফিরে শোয়। স্পন্দন স্তব্ধ হলে বুঝতে পারে-

নক্ষত্র মৃতযোনী, ভিতরে অজস্র জন্মান্তর জ্বলছে নিভছে…