সৌমিত বসু

তালু,যা ফেটে অগ্নি

 

 

তিনি আমাদের আগুন জ্বালতে শিখিয়েছিলেন

আমরা রাস্তার ডান দিক ধরে হাঁটলে তিনি বলতেন বাঁ দিকে সরে আসতে

তখন জঙ্গলের ভেতর বাস করত আমার মামাতো ভায়েরা

প্রতিবার দোলের দিন তারা রাস্তায় হাতি ছেড়ে দিত, আর

ফুলপাতার ভেতর দিয়ে যেতে যেতে আমাদের সারা গা রঙিন হয়ে উঠত

আমরা ভাবতাম, এই বুঝি ঈশ্বরের বাড়ির কাছাকাছি এসে পৌঁছালাম

এই বুঝি পথ পা হড়কে আবিস্কার করে ফেলল চেনা গলি।

 

ছোটবেলা থেকে আমরা তেমন লেখাপড়া শিখিনি, নামতাও শিখিনি

কাকের ডাক শুনে আমাদের অক্ষর চিনতে শেখা

জলপ্রপাতের ওপর বাঁশপাতা সাঁকো আমাদের ভূগোল বই

শুধু কুয়োর মধ্যে কোনও প্রাণী পড়ে গেলে আমরা স্মরণ করতাম

গর্ভের আঁধার

সেখানে তিনি আমাদের বিশ্রামের জন্যে পেতে রাখতেন শীতলপাটি

আমরা ঘুমিয়ে পড়লে কানের ভেতর ঢুকিয়ে দিতেন গরম আগুন

আর ভেতরে ভেতরে তৈরী হতে থাকত এক একটি একান্নবর্তী সিনেমা

যার কার্ণিশে পা রেখে আমাদের গাছ থেকে নামিয়ে নিয়ে যেতেন

আকাশফুঁড়ে জেগে ওঠা অপদেবতারা,

আমরাও কোলে চেপে পার হয়ে যেতাম দিগন্তবলয়।

 

আমরা রোজ না মরলেও মাঝে মাঝে মরে যাই

তিনি কখনও কখনও ঘাসের ওপর বসে আমাদের বেঁচে থাকার উপদেশ দিতেন।