মণিশঙ্কর বিশ্বাস

প্রেমিকা

 

 

রাত্রি তার স্পর্শ করেছে আঙুল

যেন গাছ প্রণাম করেছে ঝুঁকে—

ভালোবেসে শাখা ছুঁয়েছে ধুলোকে

আর জ্যোৎস্নায় ভিজে গেছে চুল।

 

শিশমহল

 

যে কোনও লেখার আগে তোমাকেই মনে পড়ে।

 

দীর্ঘ এক পথ, যার একদিকে গোরস্থান—

অন্য দিকে মেঘলা আকাশ, অল্প কিছু চাঁদতারা —

তঞ্চকতার মতো ফুটে আছে ঘাসফুল, ব্যবহৃত বেলুন—

সরল মানুষ গ্রামদেশে, ব্যাবহার জানে না তাদের—

সারাদিন দৈত্যাকার মাকড়সা এক সূর্য, তাদের মাথার ’পরে—

সেও জানে কখন কোথায় চলে যেতে হবে—

ফলে এই রাত্রি— আঞ্চলিক মহাফেজখানা—

আমি তার একান্ত প্রহরী—

 

যেন বৃদ্ধ বটগাছ, মাথার ভিতর

নীল অসংখ্য জোনাকি

এলোমেলো

তীব্র গতিময় আর

আজও অমীমাংসিত

 

ফুলবনে

 

তোমাকে মনে না রেখে, তোমার প্রণয়টুকু

তুলে রাখি গানে—

যদি হই স্মৃতিভ্রষ্ট

তবুও সে রয়ে যাবে অন্য কোনওখানে।

 

দূরে স্থলপদ্মবনে, ঘাসের উপর

কলাপাতায় রাখা শেফালির মতো মেয়েটির পা’য়ে

একফোঁটা শিশিরের জল হয়ে—

 

নুপুরের নীল ব্যথাবেদনার সুখে

ফিরে যাব ঘাসের নীলাভ দেহে,

সুবাসিত স্তনে

ফিরে যাব বাতাসের বুকে

অথবা পাতার ’পরে ঝরা-শেফালির মনে।

 

তবু-তো সে রয়ে যাবে অন্য কোনও গানে।