ঈশিতা দে সরকার

প্রেমিক 

 

মায়ের ছাপা শাড়িটা পড়েছে কালজানি নদী।
চা পাতায় বন্ধ কারাখানার ধুলো।
আকাশ তবু বইয়ের বাইরে ভূগোল ;
সদ্য লিখতে শেখা পড়ুয়া হাতের তালুতে কিছু একটা আঁকছে…
এই কিছু একটা হ্যামিল্টনগঞ্জ ষ্টেশন।
একটা চড়ুইপাখি; একটা হারিয়ে যাওয়া খেলনার বাক্স।
ঢাকনায় পুরু ভাগশেষ; অপ্রকাশিত কবিতার মায়া..
একচালা ঘর; টিপের মত চায়ের দোকান; দুটো লাল সিমেন্টের থান;
আসবাব বলতে এটুকুই…
দূর পাল্লার ট্রেন এখানে নিঃশব্দে গদ্য লেখে।
ট্রেন ছেড়ে গেলে গদ্যে স্পষ্ট হয় ভুলে যাওয়া নামের প্রথম অক্ষর; ভেসে যাওয়া রান্না ঘরের সাল – মাস।
লাল থানে শরীর ঢেলে দিই; নিঃস্ব দুপুরে শিরীর তুমুল হয়;
ষ্টেশন মাষ্টার ফ্যান চালিয়ে দিলে স্বেদবিন্দু হাঁটা দেয় চুঁয়াপাড়া চা বাগানের দিকে।
বৃষ্টি নামার আগে পিঠ বুঝে নেবে ঝুড়ির উপস্থিতি।
জারুলের ডালে বসা দোতারার রেওয়াজ শুনছি;
“দিনে দিনে দিন চলে যায়; বেলা বেশি নাই “..
বিজয় সরকার স্নান সারতে বলছে।
স্নানের সাথে ধুয়ে যাচ্ছে গোপন ইস্তেহার।
এমন নিঝুম ইশারা কোন প্রেমিকের চোখে ছিল না..
স্টেশন হ্যামিল্টন গঞ্জ;
একা রাঁধছ; টিফিন তুলে দিচ্ছ হুইশেলে।
৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধার ঘেঁষে গোলামির ফাইল গোছাচ্ছি…
আমি…