শাশ্বত কর

সনাতন

 

 

অরণ্যে জমে আছে ভাষা।

জমে আছে মেঘ, মেঘলা প্রদেশ।

 

হলুদের পাতা ঝরে। মরা কথা খুচরো পয়সার মতো উড়ে উড়ে যায়,

কথার পচন শেষে সারটুকু জমা হয় শিকড়ের দেশে-

সেখানে গাছের আর নাম লেখা নেই।

 

আরও কিছু অভিমান দিতে পারো তুমি?

দিতে পারো অশ্রুজল, তুমুল দহন?

মেঘের আধারে ছুপে বিন্দু বিন্দু রস

যদি প্রাণ হতে চায়

এসময়ে বেঁচে থাকা শীর্ণ কোন ধানের চারায়,

দিতে পারো প্রত্যাঘাত? উষ্ণতম দিন?

 

আহা যুবতী ধানের শিষ! আহা প্রাজ্ঞ ধানের বীজ!

 

অরণ্যে জমে থাকা ভাষা

নবান্নের স্বপ্ন মেখে নামে

নেমে আসে মেঘে মেঘে গাঢ় অভিলাষ

চূর্ণ জলের ভিড়ে কথার জোছনায় ঢেউ ওঠে মানব সাগরে

 

বুকে ধরে সম্মিলিত ওম সুবাসিত ভাত আসে ক্ষুধার্ত থালে।

 

 

কবিতা

 

কতকাল মুখ ফিরে আছি।

সময়ের শুষ্ক পাতা

জমে আছে। হেমন্তদিন।

 

অনন্ত নাইয়ার কাছে সঁপে দিনু কাঙাল পরাণ

কে জানে কোথায় ডাঙা! ভাঙা তরী হাসনের গান।

 

সু্নির্মল চোখ তার তীব্রতম তারা

অথচ লোকাল ট্রেন মেঘ হয়ে বলে:

ভাল আছ? কতদিন দেখি না তোমায়!

কোথায় মজুরি পাও? কী বা কাজ করো আজকাল?

গাঙের চোখের জলে নেমে উঠে প্রশ্ন ভেসে যায়…

 

কতকাল মুখফিরে আছি

না হয় অশ্রুজল শুষে নিল উপেক্ষার কানা

তা বলে কি প্রেম আর দেবে না আমায়!