নিত্যানন্দ দত্ত

ভাঙন 

 

 

নিবিড় শস্যের ভেতর হেঁটে যায় মাধুকরী হাওয়া …

জমিকে দ্বিখণ্ড করে অপরাধী আলপথ শুয়ে থাকে একা

ধানের শরীর থেকে জলজ সুঘ্রাণ উড়ে যায় কৃষকের গৃহে

 

চাষী বউয়ের শ্রান্ত দেহে গর্ভস্থ ভ্রুনের মতো সম্ভাবনা ঘুমায়, ভাতের সুগন্ধ মেখে উনুনের পাশে তৃপ্ত বাসন ঘুমায়, উঠোনের মাচায় যৌবনবতী লাউ… ঘুমায়

এইসব সুনিশ্চিত ঘুমের পাশে জেগে থাকে একলা কৃষক…

 

তার বিষণ্ণ চোখ অনন্ত শূন্যের দিকে চেয়ে দেখে কীভাবে ধূসর মেঘের মতো ক্ষুধা গ্রাস করে আদিগন্ত ক্ষেত…

 

একাকি নৌকোকে অনিশ্চয় করে নদীটিও ভেসেছে সুদূর…

ওপারে শৈশব গন্ধ রেখে এপারের কিশোরী বধূটি শিশুকে হাওয়ার গল্প শোনায়

উঠোনে ছড়ানো শস্য খুঁটে খায় গৃহস্থ চড়ুই

দরোজার পাশে ক্ষুধার্ত ঘাস অস্থির হাওয়ায় কাঁপে …

 

বাঁশবনের বিজন ছায়ায় দোকান দিয়েছে এ বাড়ির নীরিহ পুরুষ

কাঠের উনুনে তার হৃদয় পুড়ে পুড়ে মরে…

বাঁশের বেঞ্চে বসে গ্রাম্য মানুষ তা দেখে, কাঁচের বয়ামে শুয়ে লুব্ধ বিস্কুট তা দেখে…

গাছের শেকড়ে নিরন্তর ঝাঁপ দেয় ক্ষুধাতুর জল

 

মাটির পায়ের থেকে এভাবেই অজান্তে সরে যায় মাটি…